অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর পুলিশ লাইনস্ পরিদর্শন করেন ।

অদ্য ০২/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখ অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর পুলিশ লাইনস্ পরিদর্শন করেন ।

এ সময় অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়কে স্বাগত এবং ফুলের অভ্যর্থনা জানান ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর এর সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান। অভ্যর্থনা শেষে অতিরিক্ত আইজিপি মহোদয় হাউজ গার্ড সালামি গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জালাল উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় সকাল ১১:০০ ঘটিকায় কল্যাণ সভা শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এর মাধ্যমে কল্যাণ সভা শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন কনস্টেবল মোঃ মোমিনুল ইসলাম। এরপর পবিত্র গিতা পাঠ করেন নারী কনস্টেবল কুমারী মিশু রানী সাহা।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জালাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম পাবনা জেলার আতাইকুলা থানাধীন শ্রীপুর গ্রামে ১৯৬৫ সালের ০৫ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮০ সালে পাবনা জেলার আতাইকুলা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ হতে এইচএসসি, ১৯৯০ সালে শেরে বাংলা কৃষি ইন্সটিটিউট হতে স্নাতক এবং সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটি হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ১৯৯১ সালের ২০ই জানুয়ারি ১২তম বিসিএস ব্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে সহকারি পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও কৃতিত্বে সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে অত্যন্ত সুনামের সাথে পুলিশ সুপার হিসেবে গাজীপুর জেলা, গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট এবং মুন্সিগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জ অফিস এবং ডিএমপি, ঢাকায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে আরএমপি, রাজশাহীর কমিশনার এবং সর্বশেষ সুদীর্ঘ ০৩ বছর ০৯ মাস বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ১৭ই মে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে ২৫ শে মে/২১ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অভিভাবক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কসোভো এবং এঙ্গোলা ইউএন মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশ-বিদেশ হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম তাঁর গৌরবময় পেশাদারিত্ব এবং ভাল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশ পদক(বিপিএম) ০২ বার, পিপিএম এবং আইজি ব্যাজ প্রাপ্ত হন। জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত জীবনে বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব, জনাবা মালেকা খায়রুন্নেছা সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ০১ কন্যা এবং ০২ পুত্র সন্তানের আশির্বাদ পেয়েছেন।

অতঃপর কল্যাণ সাভার ধারাবাহিকতার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ সভায় মতামত ব্যক্ত করার আহব্বান জানালে নারী কনস্টেবল মোছাঃ সুমি আক্তার তার আলোচনার এক পর্যায়ে নারী ব্যারাকের জন্য আবেদন করে নিজ বক্তব্য প্রদান করে।

কনস্টেবল শাহীন আলাম তার বক্তব্যে বলেন, তিনি করোনায় আক্তান্ত হয়ে প্রথমে সরকারি তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জয়দেবপুর, গাজীপুর চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং পরে রাজারবাগ ঢাকায় ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। আমাদের ইউনিটে একটি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও এখানে কোন মেডিকেল অফিসার নাই। বিধায় একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগের জন্য আবেদন করেন।

এসআই(নিঃ) মোঃ আমিনুল ইসলাম, তার বক্তব্যে জানান যে, আমরা অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম স্যারকে পেয়ে আনন্দিত। তিনি বলেন আমাদের আবাসন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না। আমাদের পুলিশ লাইনস্ এ একটি মাত্র ড্রিল শেড আছে। এমতাবস্থায় যদি একটি ড্রিল শেড তৈরি করে দেওয়া হয়, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবেন ।

ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট। কিন্তু এখানে কোন অফিসার মেস নেই। তাই যদি এখানে একটি অফিসার মেস এর ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবেন।

ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, টঙ্গী পুলিশ ক্যাম্প একটি পরিত্যাক্ত বিল্ডিং। বৃষ্টি হলে অফিসার ও ফোর্স এর ব্যারাকটি পানিতে তলিয়ে যায়। গত ০১/০৬/২০২১ খ্রি. তারিখের বৃষ্টির পানিতে ব্যারাক পানিতে তলিয়ে যায়। কাজেই থাকার জন্য নিজস্ব কোন বিল্ডিং এর ব্যবস্থা করলে ভাল হত।

ইন্সপেক্টর শাহ্ মোঃ হারুন-উর-রশিদ বলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের কাজ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যের একপর্যায়ে শিল্পাঞ্চল থানা গঠনের আবেদন করেন।

ইন্সপেক্টর মোঃ ইসলাম হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শতভাগ পেশাদারিত্ব, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরাও গাজীপুর শিল্প পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে শিল্প এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের গাজীপুর শিল্প এলাকায় কর্মবান্ধব পরিবেশ বজায় আছে। আমাদের ইউনিটে যদি অফিসার ও ফোর্সের ডিউটির জন্য বড় গাড়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের কাজের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের শিল্প সংক্রান্ত মামলাগুলো নিজস্ব থানায় রুজু হলে শুরু থেকে সঠিকভাবে তদন্ত করা সম্ভব হবে।

এএসপি(সঃদঃ) জনাব এ কে এম শাহীন মন্ডল তার স্বগত বক্তব্যের শুরুতেই সবাই’কে সালাম প্রদান করেন। মাননীয় অতিরিক্ত আইজিপি স্যার সম্পর্কে এবং স্যারের কাজ সম্পর্কে স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, পূর্বের কর্মস্থলগুলোতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের পাশা পাশি মাদক নির্মূল, জঙ্গী দমন ও দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন। স্যারের নেতৃত্বে আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশেও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করব। একপর্যায়ে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি স্যারের কাছে নতুন ওয়াটার ক্যানন বরাদ্দের ব্যাবস্থা করার আবেদন রাখেন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর এর সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান স্যার বলেন, অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম স্যার আমাদের সবার প্রিয় এবং সু-পরিচিত। পরবর্তীতে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি স্যার সম্পর্কে বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে করণীয় কি, তা স্যার জানেন এবং  সেই মোতাবেক মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে থাকেন। বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ শিল্প মালিক, শিল্প উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক ভাই-বোন সবার ভালবাসা ও আস্থা অর্জন করেছে। মালিক এবং শ্রমিক সবাই শিল্প পুলিশের সাহায্য পেয়ে থাকে। তিনি আরোও বলেন, মহামারী সময়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য এবং ফ্যাক্টরির উৎপাদন কর্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঝুকি নিয়ে কাজ করে চলেছে। যার ফলে তিনিসহ অত্র ইউনিটের ৭১ (একাত্তর) জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল।

পরিশেষে, অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম স্যার বলেন, তিনি গত ২৫/০৫/২০২১ খ্রি. তারিখ যোগদান করেন। তিনি এর আগে রেঞ্জ ডিআইজি, বরিশাল এবং কমিশনার, আরএমপি, রাজশাহী’তে কর্মরত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং পুলিশ সুপার, হিসেবে গাজীপুর থাকাকালীন সময়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, গাজীপুরের রাস্তার পাশে মাত্র কয়েকটি বাজার ছিল। চারপাশে ধান চাষ হত। গাজীপুরের রাস্তাঘাট সবই তার পরিচিত। মাত্র দশ বছর হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করা হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠনের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে উৎপাদন ব্যবস্থা বৃদ্ধিসহ কর্ম বান্ধব পরিবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় পক্ষের কোন ব্যক্তিদের ইন্ধনে যেন মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে কোন ধরণের ভুল বুঝাবুঝি না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। গার্মেন্টসগুলো যেন তাদের উৎপাদন কাজ সঠিকভাবে করতে পারে সেই জন্য কাজ করে যেতে হবে। শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে শিল্প সেক্টরের সার্বিক উন্নয়ন ঘটেছে । ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এর দায়িত্ব অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পোস্টিং হলে ভালভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ভালো জায়গায় পোস্টিং হয়েছে মনে করতে হবে। অগ্রিম এবং সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে আমরা ভাল করতে পারবো। সাংবাদিক ভাইদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহসহ তথ্য সংগ্রেহের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট ঘটনা থেকে বড় ঘটনার যেন সূত্রপাত না ঘটতে পারে সেই জন্য বেশি বেশি অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। যেমন একজন শ্রমিক সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেলে সেখান থেকে বড় ধরণের শ্রমিক অসন্তোষ হতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, আমাদের মহিলা শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হলে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ভিকটিম’কে সাপোর্ট করাসহ ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করে সকল আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। ফ্যাক্টরির বেতন-বোনাস সংক্রান্ত অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তৃতীয়পক্ষ দ্বারা গার্মেন্টস সেক্টরে যেন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। ইন্ধনদাতাকে সনাক্ত করতে হবে। আমরা যদি সনাক্ত করতে না পারি তাহলে শ্রমিক অসন্তোষ বেড়ে যাবে। আর যদি সনাক্ত করতে পারি তাহলে শ্রমিক অসন্তোষ অনেকাংশে কমে যাবে। দেশ সেবা করার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। এখানে কনস্টবলের দায়িত্বও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের আইন শৃঙ্খলা ভাল রাখতে পারলে কাজের অর্ডার বাড়বে। দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি ঘটবে। বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশের শিল্পের গুণগত মানের প্রসার ঘটবে। গাড়ী বা যানবাহন না থাকার অজুহাতে আমাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন করা যাবে না। এই মহামারী করোনাকালে সবার যৌথ কার্যক্রমে আমাদের শিল্পে উৎপাদন কর্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব বিশেষায়িত। আমাদের’কে ইনফরমেশন বেজড কাজ করতে হবে। বল প্রয়োগ করতে হলে আইন মেনে বল প্রয়োগ করতে হবে। সময় মতো শ্রমিকরা যাতে বেতন-বোনাস পায়, সেই জন্য শিল্প মালিকদের অনুরোধ করতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন তিনি নিজেকে কখনো বড় অফিসার মনে করেন না। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পারলে এবং থাকলে সেটাই বড় পাওয়া। উৎপাদ কাজ স্বভাবিক থাকুক মালিক, শ্রমিক সাবাই সমান থাকুক এটাই চাওয়া। মধ্যস্ততাকারী হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব আমরা তা যথাযথভাবে পালন করব। মন থেকে আমারা কাজ করব। জেলার পুলিশ সুপার, ওসিরা যেভাবে কাজ করে আমরাও এখানে সেইভাবে কাজ করব। সব ধরণের উন্নয়ন মূলক কাজ যেন সঠিকভাবে করতে পারি তার জন্য আমরা আন্তরিক থাকব। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌছে যাবে। আমারা সবাই সেই মোতাবেক কাজ করব। এই বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অতঃপর সভাপতি মহোদয় প্রধান অতিথির অনুমতিক্রমে বিষেশ কল্যাণ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এরপর দুপুর ১২:১৫ মিনিটের সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুরের পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে শিল্প মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। সভার শুরুতেই সবাই নিজ নিজ পরিচয় প্রদান করেন। উক্ত মত বিনিময় সভায় ইস্ট ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিঃ, প্যাট্রিয়ট ইকো এ্যাপারেলস্ লিঃ, টিভলী এ্যাপারেলস লিঃ, ম্যাট্রিক্স সোয়েটার লিঃ, আদর কম্পোজিট লিঃ, টি ডিজাইন নীটওয়্যার লিঃ, আম্বার কটন মিলস লিঃ, ওসিন স্পিনিং মিলস লিঃ, টেক্স টেক কোম্পানী লিঃ, ভি এন্ড আর ফ্যাশনস্ লিঃ, লাস্তাবুর এ্যাপারেলস লিঃ এবং স্টাইলিস গার্মেন্টস লিঃ এর মালিক ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। বর্ণিত ফ্যাক্টরিগুলো মালিক এবং প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তেব্যে জানান যে, বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্যান্ত দক্ষতা এবং পেশাদাতিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যেকোন প্রয়োজনে আহব্বান করামাত্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ কাঙ্খিত সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তারা আরোও বলেন শিল্প সেক্টরে মালিক এবং শ্রমিক যেই দোষী হোক না সবাই’কে আইনের আওতায় আনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অর্থাৎি ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহা উৎসবগুলোতে পূর্ব থেকেই যদি সরকারি সিদ্ধান্ত আসে তাহলে শ্রমিক অসন্তোষ বহুলাংশে কমে যাবে। অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম স্যার বলেন, ফ্যাক্টরির মালিক, শ্রমিক উভয়পক্ষ যদি নিজেদের মধ্যে কাউন্সিলিং করে তাহলে শ্রমিক অসন্তোষ অনেকাংশে কমে যায়। তিনি আরো বলেন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ সংগঠনগুলো সঠিকভাবে মালিক এবং শ্রমিকদের নিয়ে কাউন্সিলিং করলে শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিক কমে যাবে। শিল্প পুলিশ জনগণ তথা মালিক ও শ্রমিকদের সেবা করার একটি বড় প্লাটর্ফম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রতিটি সদস্য শিল্পের উৎপাদনের পরিবেশ সচল রাখার জন্য কাজ করতে ওয়াদা বন্ধ এবং সেই মোতাবেক আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অতঃপর সবাই’কে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং সবার সু-স্বাস্থ্য কামনা করে মত বিনিময় সভার সমাপ্তি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up
Call-999